Bangla News: অন্ধকারে যা ঘটালো যুবক! পাকড়াও হতেই তুমুল হইচই এলাকায়...

ডেইলি লাইফ ২৪ নিউজ কোচবিহার ব্যুরো: জেলা কোচবিহারের তোর্সা বাঁধের ওপরের রাস্তা। সেখানেই ফাঁসির ঘাট সংলগ্ন এলাকায় আচমকাই তুমুল হইচই। রাস্তায় জড়ো হয়ে রয়েছেন প্রচুর মহিলা। খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এক যুবককে। মাঝে মধ্যেই দুই-একজন মহিলা তেড়ে গিয়ে সপাটে চড় বসাচ্ছেন যুবকের গালে। যুবক এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে রীতিমত কাতর আর্তনাদ করছে। তবে উপস্থিত কেউ তাঁকে সাহায্য করছেন না।

ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই স্থানীয় এক বাসিন্দা মহিলা সীমা দাস জানান, "যুবকের বাড়ি এই এলাকাতেই। আগেও নাকি তাঁকে এলাকার মানুষেরা পাকড়াও করেছিল। তবে এবারে একেবারে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়েছে তাঁকে। যুবকের বাড়ির পাশের এক বাড়ির টোটো গাড়ির থেকে ব্যাটারি চুরি করেছে সে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার কারণেই তাঁকে বেঁধে রাখা হয়েছে খুঁটির সঙ্গে। কোতোয়ালি থানার পুলিশকে খবর পাঠানো হয়েছে।"

এরপর টোটোর মালিক অমিতাভ চৌধুরীর মা অনিতা চৌধুরী সামনে এগিয়ে আসেন। অনিতা চৌধুরী জানান, "আগেও এই যুবক তাঁদের টোটো গাড়ির ব্যাটারি চুরি করেছে। তবে এবারে সে টোটো গাড়ির চারটি ব্যাটারি একসঙ্গে চুরি করেছে। তাঁর ছেলে হাসপাতালে ব্যস্ত ছিল বাচ্চা হওয়ার কারণে। এই সুযোগে এই যুবক টোটো গাড়ির চারটি ব্যাটারি একসঙ্গে চুরি করে। তাঁদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা স্থানীয় এক টোটোওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর তাঁর কাছ থেকে টোটো গাড়ির ব্যাটারি চুরির বিষয়টি তাঁরা বিস্তারিত জানতে পারে।"

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জনৈক ওই যুবকের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। এর আগেও এই এলাকায় একাধিক চুরির সঙ্গে ওই যুবকের যোগ রয়েছে। তাই যুবকের কার্যকলাপে রীতিমতো অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যুবকের পরিবারের এই বিষয়ে কোন প্রকার মতামত পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, "যুবকের চুরি করার পেছনে তাঁর পরিবারেরও হাত রয়েছে। মূলত নেশা করতেই এই চুরি করে সে।"

স্থানীয় বাসিন্দারা এরপর পুলিশকে খবর দেন। তারপর কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। তারপর জনৈক ওই যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানতে পারা গিয়েছে, "ঘটনার মামলার রজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। চুরি যাওয়া টোটো গাড়ির ব্যাটারি উদ্ধার করতে চেষ্টা করছে পুলিশ।" তবে এলাকায় পরপর বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাই এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রীতিমত ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।